বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২২nd ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সমাপ্ত প্রকল্প

সমাপ্ত প্রকল্পঃ

১। প্রকল্পের নামঃ ঢাকা মহানগরে মৎস্য বিপণন সুবিধাদি স্থাপন প্রকল্প যাত্রাবাড়ী, ঢাকা:

সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ মেগাসিটি ঢাকাতে আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র না থাকায় খোলা আকাশের নীচে কাঁদামাটিতে যত্রতত্র অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাছ অবতরণ ও বিপণন করা হয়। মাছ অতি পঁচনশীল দ্রব্য, দ্রুত পঁচে এর গুণগতমান  নষ্ট হয়ে রাজধানীর পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির  সম্মুখীন হয়। উপরোক্ত সমস্যা নিরসনকল্পে পরিবেশ সম্মত উপায়ে মাছের গুণগতমাণ বজায় রেখে ঢাকা মহানগরে মৎস্য বিপণন ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের বিপণন সুবিধাদি নিশ্চিতকরণার্থে বিএফডিসি কর্তৃক যাত্রাবাড়ীতে ‘‘ঢাকা মহানগরে মৎস্য বিপণন সুবিধাদি স্থাপন প্রকল্প’’ টি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়। প্রকল্পটি ঢাকা মহানগরের যাত্রাবাড়ীস্থ মৎস্য বাজারের প্রাণকেন্দ্রে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধিগ্রহণকৃত জমি সওজের সম্মতিক্রমে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে জমি স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ম্যানুয়াল-১৯৯৭ অনুসরণে জেলা প্রশাসন, ঢাকা  ২৫/৬/২০০৯ তারিখে নগদ মূল্য গ্রহণপূর্বক বিএফডিসিকে হস্তান্তর করে।  উক্ত জমির উপর ৬তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করে  মৎস্য আড়ৎদারদের প্রদান করার জন্য আড়ৎ  ও আড়ৎঘর নির্মাণ করা হয়।  অবতরণকৃত মাছ ফরমালিন মূক্ত কিনা তা নিশ্চিত করনের জন্য ১টি QUALITY CONTROL LAB নির্মাণ করা হয়।

 

উদ্দেশ্যঃ

* বর্তমান ঢাকা শহরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মৎস্য অবতরণ, বাজারজাতকরণ ও বিপণন পদ্ধতির আধুনিকায়ন।

* ঢাকা শহরে স্বাস্থ্যকর ও মানসম্মত উপায়ে মৎস্য অবতরণ, বাজারজাতকরণ ও বিপণন সুবিধাদি প্রদান।

* ঢাকা মহানগরে ফরমালিনমূক্ত মাছ সরবরাহে সহায়তাকরণ।

 

আর্থিক সংশ্লিষ্টতাঃ

                                                   প্রকল্প ব্যয় (লক্ষ টাকায়)

মূল

৮০৭.০০

-

সংশোধিত

৮৮৭.০০

-

আন্তঃখাত সমন্বয়কৃত

৭৩৯.২০

(প্রকল্প এলাকায় ১৮ শতক জমির বরাদ্দ মূল্য ফেরৎ দেওয়ায় প্রকল্প ব্যয় হ্রাস পায়)

অর্থায়নঃ  জিওবি থেকে ঋণে গৃহীত অর্থ দ্বারা এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়।

 

 

 

প্রকল্প বাস্তবায়নঃ

* গত ৭/৮/২০০৮ তারিখে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। গত ২৮/৪/২০১০ তারিখে জেলা প্রশাসন থেকে সীমানা চিহ্নিত করে প্রকল্প ভবন নির্মাণের সাইট বুঝিয়ে দেয়া হয়।

* মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোঃ আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, এমপি গত ১০/৬/২০১০ তারিখে এ প্রকল্প ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

* উক্ত অনুষ্ঠানে ঢাকা-৫ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান মোল্লা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব উপস্থিত ছিলেন।

*  প্রকল্প বাস্তবায়নকালঃ ২০০৮/০৯-২০১১/১২।

 

কার্যক্রমঃ

* ঢাকা মহানগরীর যাত্রাবাড়ীস্থ বিদ্যমান মৎস্য বাজারটির প্রাণকেন্দ্রে ১৫ শতক জমির উপর ৬তলা বিশিষ্ট ১টি ভবন নির্মাণ করা হয়।

* উক্ত ভবনে মৎস্য ব্যবসায়ীদের জন্য মৎস্য আড়ৎ আড়ৎঘর নির্মাণ করা হয়।

* ১টি কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাব নির্মাণ করা হয়। যা দ্বারা ফরমালিন মূক্ত মাছ ঢাকা বাসীকে সরবরাহ করতে সহায়ক হয়।

 

প্রকল্পের সুবিধাদিঃ

ক্রঃ নঃ

খাতের নাম

সংখ্যা

১)

৬ তলা বিশিষ্ট প্রকল্প ভবন

১টি

২)

আড়ৎ

BASEMENT  

GROUND FLOOR

1ST FLOOR         

৩)

আড়ৎ ঘর

2ND FLOOR         

3RD FLOOR          

4TH FLOOR          

5TH FLOOR           

৪)

অফিস

১টি

৫)

কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাব

১টি

৬)

কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাব এর অ্যাপারেটাস ও কেমিক্যালস

গুচ্ছ

৭)

আইস ক্রাসার

৪টি

৮)

কম্পিউটার

২টি

৯)

জেনারেটর

১টি

১০)

পিকআপ ভ্যান

১টি

 

 

          এটি সরকারের একটি পাইলট প্রকল্প ছিল। এ প্রকল্পের সফলতা ও লব্ধ অভিজ্ঞতা দ্বারা ভবিষ্যতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় যথা সোয়ারীঘাট, কামরাঙ্গীরচর, কাওরানবাজার, মীরপুর গাবতলী-বেড়ীবাধ, কচুক্ষেত, আবদুল্লাহপুর, নবীনগর, টংগী প্রভৃতি স্থানে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা যেতে পারে।

 

 

 

 

 

 

২। প্রকল্পের নামঃ কাপ্তাই লেকে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ প্রকল্প:

 

সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ

কাপ্তাই লেকে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ প্রকল্প  (কম্পোনেন্ট-এ, বি, সি) মোট ২৫৩০.৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জানুয়ারী ২০১১-জুন ২০১৭ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পে কম্পোনেন্ট-এ অংশ বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন, কম্পোনেন্ট-বি অংশ মৎস্য অধিদপ্তর এবং কম্পোনেন্ট-সি অংশ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রকল্পের মাধ্যমে হ্যাচারী, নার্সারী পুকুর, চেকপোস্ট নির্মাণ, অভয়াশ্রম, মোবাইল মনিটরিং সেন্টার স্থাপন, মৎস্য গবেষণাগার নির্মাণ, মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণ প্রদান প্রভৃতি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। এতে প্রত্যক্ষভাবে ৫৭ জন এবং পরোক্ষভাবে ৩,০০০ জন লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে স্থানীয় জনগণ, উপজাতি ও মৎস্যজীবীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

 

 

উদ্দেশ্যঃ

  • হ্যাচারী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গুণগত মান সম্পন্ন মৎস্য পোনা উৎপাদন করা
  • অভয়াশ্রম ঘোষণার মাধ্যমে প্রধান প্রধান প্রজনন  ক্ষেত্রসমূহ ও জীব-বৈচিত্র রক্ষা করা
  • লেকে টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্বি করা
  • অবমুক্তকরণের জন্য পোনার সঠিক আকার, মোট পরিমান, প্রজাতিভিত্তিক পরিমান নির্ধারণ ও কার্প জাতীয় মাছের উৎপাদন হ্রাসের কারণ উৎঘাটনের নিমিত্ত গবেষণা করা
  • কাপ্তাই লেকে মৎস্য আহরণ বন্ধকালীন সময়ে মৎস্যজীবীদের বিকল্প জীবিকায়নের ব্যবস্থা করা
  • মৎস্যজীবী ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের সাম্প্রদায়িক উন্নয়নের জন্য তাদের প্রশিক্ষণ এবং মৎস্য উৎপাদন ও প্রজনন প্রযুক্তি সংক্রান্ত প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা 

 

প্রকল্পের মোট বরাদ্দঃ ২৫৩০.৪৫ লক্ষ টাকা (অর্থের উৎস : জিওবি)

 

বাস্তবায়নকারী সংস্থাসমূহ

কম্পোনেন্ট-এ

:

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন

কম্পোনেন্ট-বি

:

মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ

ম্পোনেন্ট-সি

:

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট

 

 

কম্পোনেন্ট-এ

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন

মোট অর্থ বরাদ্দ : ১৭০৭.০০ লক্ষ টাকা

 

প্রকল্পের কম্পোনেন্ট-এ অংশের উদ্দেশ্য

  •  মাছের পোনার উৎপাদন খরচ হ্রাস করা এবং বর্তমান ব্যবস্থাপনা পদ্বতিকে জোরদারকরণের মাধ্যমে কাপ্তাই লেকের ভারসাম্যপূর্ণ মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করা
  •  মৎস্য হ্যাচারী ও নার্সারী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাৎষরিক ৬০ মে. টন পোনা অবমুক্তকরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা
  •  অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতি ও অন্যান্য বিপন্ন প্রজাতিসমূহকে সংরক্ষণ করা

 

আর্থিক সংশ্লিষ্টতাঃ

  • প্রকল্প মেয়াদ              :           জানুয়ারী ২০১১ হতে জুন ২০১৭
  • মোট অর্থ বরাদ্দ          :           ১৭০৭.০০ লক্ষ টাকা
  • অর্থের উৎস              :           জিওবি থেকে ঋণে গৃহীত অর্থ দ্বারা এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়।

 

 

 

কার্যক্রম

১. হ্যাচারী নির্মাণ- ১টি

অবস্থানঃ লংগদু, রাঙ্গামাটি

আয়তনঃ ২ একর

উদ্দেশ্যঃ বছরে ৬০ কেজি রেনূ উৎপাদন

 

২. নার্সারী পুকুর নির্মাণ- ৬টি

অবস্থানঃ লংগদু, রাঙ্গামাটি

আয়তনঃ ২৭ একর

উদ্দেশ্যঃ বছরে ৭০ টন পোনা উৎপাদন

 

৩. অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা- ৬টি

ক্রমিক নং

অভয়াশ্রমসমূহ

রাঙ্গামাটি ডিসি বাংলো এলাকা

লংগদু উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকা

রাঙ্গামাটি বিএফডিসি অফিস সংলগ্ন এলাকা

চেংগি রেঞ্জ- নানিয়ারচর ও উর্দ্বমূখি এলাকা

রিংখঙ রেঞ্জ- বিলাইছড়ি হতে চকড়াছড়ি ও উর্দ্বমূখি এলাকা

কাপ্তাই নৌ বাহিনী এলাকা

 

 

৪. মোবাইল মনিটরিং সেন্টার স্থাপন- ৬টি

ক্রমিক

অবস্থান

মনিটরিং এলাকা

রিজার্ভ বাজার, রাঙ্গামাটি

রাঙ্গামাটি ও তৎসংলগ্ন এলাকা

কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি

কাপ্তাই ও তৎসংলগ্ন এলাকা

বিলাইছড়ি, রাঙ্গামাটি

বিলাইছড়ি ও এর উর্দ্বমুখি এলাকা

শুবলং, রাঙ্গামাটি

শুবলং ও এর উর্দ্বমুখি এলাকা

নানিয়ারচর, রাঙ্গামাটি

নানিয়ারচর ও এর উর্দ্বমুখি এলাকা

লংগদু, রাঙ্গামাটি

লংগদু ও কাট্টলি বিল

 

উদ্দেশ্যঃ লেকের মৎস্য সম্পদের  নিরাপত্তা বিধান

 

৫. চেকপোষ্ট নির্মাণ

 

সংখ্যা   : ২টি

অবস্থান : ১. দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি

              ২. বড়ইছড়ি, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি

উদ্দেশ্যঃ লেকের মৎস্য চোরাচালান রোধকরণ

 

 

প্রকল্পের অর্জিত লক্ষ্যঃ

  • কাপ্তাই লেকের বর্তমান উৎপাদন ৯০০০ মে. টন হতে ১৭৫০০ মে. টনে উন্নিতকরণ
  • কার্প জাতীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্বিকরণ
  • বিএফডিসি’র বার্ষিক রাজস্ব ১০ কোটি টাকায় উন্নিতকরণ
  • ১০ হাজার জেলের জীবন মান কাঙ্খিত মানে উন্নয়ন
  • এক হাজার স্থানীয়  জনগোষ্টির কর্মসংস্থান

 

          পার্বত্য অঞ্চলের জীবন-জীবিকা, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, পুষ্টির চাহিদাপুরণ ও স্থানীয় ঐতিহ্যের সাথে কাপ্তাই হ্রদ ওতোপ্রত ভাবে জড়িত। স্থানীয় সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন ও দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে বিগত দিনে বিএফডিসির ভুমিকা ছিল অন্যতম ও সময়োপযোগী। কাপ্তাই লেকে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে কাপ্তাই লেকে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ প্রকল্পের অধীন নির্মিত হ্যাচারী, নার্সারী, চেকপোস্ট, অভয়াশ্রম ও মোবাইল মনিটরিং সেন্টার প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


Share with :

Facebook Facebook